1. admin@thedailyreport24.com : admin :
আন্তর্জাতিক আর্থিক অপরাধ চক্রের কবলে বাংলাদেশ- The Daily 24
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
>>>পরীক্ষামূলক সম্প্রচার<<<

আন্তর্জাতিক আর্থিক অপরাধ চক্রের কবলে বাংলাদেশ

  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক আর্থিক
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  Yum
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আন্তর্জাতিক আর্থিক অপরাধ চক্রের কবলে বাংলাদেশ

দ্য ডেইলি রিপোর্ট২৪. নিউজ

বিশ্বের বড় বড় ব্যাংকে ২ লাখ কোটি ডলারের সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা সংস্থা ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্কের (ফিনসেন) ফাঁস হওয়া গোপন নথিতে বাংলাদেশের তিনটি ব্যাংকের নাম আছে। এর আগে মানি লন্ডারিংয়ের জন্য আলোচিত পানামা পেপার্স, প্যারাডাইস পেপার্স, সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা ও গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নাম এসেছে। আন্তর্জাতিক এ অপরাধচক্রের বিষয়ে সবসময়ই অন্ধকারে বাংলাদেশের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এমনকি আন্তর্জাতিক সংস্থায় তথ্য প্রকাশ হলেও সেই বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি বিএফআইইউ।

সূত্র জানায়, সর্বশেষ গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা সংস্থা ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্কের (ফিনসেন) কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ফাঁস করেছে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে)। ফিনসেন ফাইলস শীর্ষক ওই নথিতে বিশ্বের বড় বড় ব্যাংকের মাধ্যমে ২ লাখ কোটি ডলারের সন্দেহজনক বিদেশি লেনদেনের তথ্য প্রকাশ করা

হয়। এতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রমালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক, বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের (এসআইবিএল) নাম এসেছে। এর মধ্যে রূপালী ব্যাংক অর্থ পাঠিয়েছে এবং অপর দুটি ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ এসেছে। সব মিলিয়ে ব্যাংকগুলোয় ৮ লাখ ৩২ হাজার ৯৩৭ ডলারের লেনদেন হয়েছে। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ ৭ কোটি ৮ লাখ টাকা। সব লেনদেন হয়েছে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে। আবার এসব লেনদেন সংঘটিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও ব্যাংক অব নিউইয়র্ক মেলান করপোরেশনের মাধ্যমে।

বাংলাদেশের সব মিলিয়ে আটটি লেনদেনকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট এবং ১ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়া অ্যান্ড নিউজিল্যান্ড ব্যাংকিং (এএনজেড) থেকে ইসলামী ব্যাংকে আসে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ১৩৩ ডলার। এ ছাড়া লাটভিয়ার রিজিয়ন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক থেকে ২০১৪ সালের ১৪ এপ্রিল সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে আসে ১ হাজার ৬০০ ডলার।

রূপালী ব্যাংক ২০১৬ সালের ১৫ ও ২২ সেপ্টেম্বর ডয়েচে ব্যাংকে পাঠায় ৪ লাখ ৯৫ হাজার ২০৪ ডলার। ব্যাংকগুলোর লেনদেনের মধ্যে তিনটি নিষ্পত্তি হয় ব্যাংক অব নিউইয়র্ক মেলান করপোরেশনের মাধ্যমে ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মাধ্যমে পাঁচটি লেনদেন নিষ্পত্তি হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, যেটা পাওয়া গেছে, এটা নমুনা মাত্র। বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচারের ঘটনা আজ সর্বজনস্বীকৃত।

বাংলাদেশে সন্দেহজনক লেনদেন তদারকি করে থাকে বিএফআইইউ। বিএফআইইউর প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, বিষয়টি আমেরিকান ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এফআইইউ) তদন্ত করছে। এগমন্ট গ্রুপ (১৬৫টি দেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার সংগঠন) থেকে আমাদের বলা হয়েছে, অন্য কোনো দেশের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান যেন এ বিষয় নিয়ে কথা না বলেন।

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কাজী ওসমান আলী বলেন, এটি অনেক পুরনো ঘটনা। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। এটি একটি রেমিট্যান্স। আমার মনে হয় বিষয়টি সন্দেহজনক নয়। ওই টাকাটা আমাদের একজন ভালো গ্রাহকের কাছে এসেছিল, তিনি এখনো আমাদের গ্রাহক এবং নামকরা ব্যবসায়ী। এ রকম রেমিট্যান্স আমাদের কাছে আসে।

তবে অর্থপাচারে বিষয়টি এটি প্রথম নয়। বিশ্বে আলোচিত বড় বড় ঘটনায় বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচারের তথ্য জানা যায়। সাম্প্রতিক অতীতের সবচেয়ে আলোচিত ফাঁসকা-ের একটি হচ্ছে পানামা পেপার্স। ২০১৬ সালে ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৮টি অফশোর প্রতিষ্ঠানের ১ কোটি ১ লাখ ৫০ হাজার নথি ফাঁস হওয়ার এ ঘটনাই পানামা পেপার্স নামে পরিচিত। এসব নথিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধনী ব্যক্তিদের কর ফাঁকির কা- উদ্ঘাটিত হয়।

পানামা পেপার্স ফাঁসকা-ের এক বছর পর ১ কোটি ৩৪ লাখ নথি ফাঁসের ঘটনা প্যারাডাইস পেপার্স নামে পরিচিত। আইনি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলবাই, করপোরেট সেবাদাতা এস্তেরা ও এশিয়াসিটি ট্রাস্ট থেকে এসব নথি ফাঁস হয়। এতে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে আসে। বিশ্বের বড় রাজনীতিবিদ ব্যবসায়ী, বিনোদনজগতের শীর্ষদের পাশাপাশি বাংলাদেশের বেশকিছু ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদের নাম আসে।

এ ছাড়া নিজেদের অর্থ সুরক্ষিত রাখতে বিশ্বের ধনীর ব্যক্তিরা সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোকে বেছে নেন। সুইচ ব্যাংকগুলোয় ২০১৯ সালে বাংলাদেশিদের মোট সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০ কোটি ৩০ লাখ ফ্র্যাংক। স্থানীয় মুদ্রায় ৫ হাজার ৪২৭ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে এ সঞ্চয় ছিল ৫ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) প্রতিবেদন অনুসারে ২০০৬-২০১৫ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের প্রায় সমান। একক বছর হিসেবে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ১ হাজার ১৫১ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। দেশীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা। এই পরিমাণ অর্থ দিয়ে ৪টি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার হ্যাক করে ফিলিপাইন ও শ্রীলংকায় নিয়ে যায় অপরাধচক্র। শ্রীলংকার সরকার সেটি ফেরত দিলেও ফিলিপাইনে যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফেরত পেতে মামলা চলছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্যমতে, সিংহভাগ অর্থ পাচার হয় ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে। বাংলাদেশ থেকে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ নেই। তাই আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অর্থ পাচার হয়ে থাকে। মূলত ৪টি প্রক্রিয়ায় অর্থ পাচার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশি পণ্যের আমদানিমূল্য বেশি দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং), রপ্তানিমূল্য কম দেখানো (আন্ডার ইনভয়েসিং), হুন্ডি ও অন্য মাধ্যমে বিদেশে লেনদেন এবং ভিওআইপি ব্যবসা। বাংলাদেশের বিএফআইইউ তাদের নজরদারিতে এসব অবৈধ লেনদেন উদ্ঘাটন করতে পারেনি। বিদেশের সংস্থার কাছ থেকে জানার পরও কারা কীভাবে অর্থপাচার করেছে, সেটিও বের করতে পারেনি। তবে সম্প্রতি দু-একটি ঘটনার তদন্ত করছে বিএফআইইউ।

বিএফআইইউ প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর আমরা খতিয়ে দেখি। সবগুলো বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায় না। তবে যেগুলোর তথ্য পাওয়া গেছে তার কয়েকটি বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়েছি।

দ্য ডেইলি রিপোর্ট২৪. নিউজ

www.thedailyreport24.com

ভালো লাগলে এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই কেটাগরির আরো খবর
© All rights reserved 2020 thedailyreport24

প্রযুক্তি সহায়তা WhatHappen